Cricket News

ইংল্যান্ডের পাকিস্তান সফরের পর পাকিস্তানে আরো অনেক ক্রিকেট হবে আশাবাদী দেশের অনেকে

২০০৯ সালে সফরকারী শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট দলের ওপর সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলার পর প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে থেকে নির্বাসিত ছিল ক্রিকেটে অন্যতম জনপ্রিয় দেশ পাকিস্তান। ওই ঘটনায় কয়েকজন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা আহত হওয়ার পাশাপাশি মারা গিয়েছিল ৮ জন নিরাপত্তা কর্মী। আগামী বছর ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের প্রথম সফর পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। তারপরও চ্যালেঞ্জ থেকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শ্রীলঙ্কা দলের ওপর  হামলাটি পাকিস্তানের জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থীদের সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধের আরেকটি অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। যে যুদ্ধে দেশটিতে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং ক্ষুণ্ণ হয়েছে আন্তর্জাতিক ভাবমুর্তি। কিন্তু সেনাবাহিনীর বছরব্যাপী অভিযানে পাকিস্তানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমুল উন্নতি ঘটেছে এবং কিছু দেশ সেখানে সফরের ব্যাপারে নমনীয় হয়েছে। পাকিস্তানে দায়িত্বরত ব্রিটিশ হাই কমিশনার ক্রিস্টিয়ান টার্নার এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক বলেছেন।

ইংল্যান্ডের স্কাই নিউজকে তিনি বলেন, ‘গত ৫ বছরে এখানে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। এখন পাকিস্তানের দরকার বাস্তবতা উপলব্ধি করা। আমাদের পর্যবেক্ষণে ২০১৫ সালের পর নিরাপত্তাজনীত অপরাধের হার ৮০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আমি মনে করি এ জন্য পাকিস্তান প্রশংসা পাবার দাবিদার।’

আগামী বছর ১৪ ও ১৫ অক্টোবর করাচিতে দুটি টি-২০ ক্রিকেট ম্যাচ খেলবে ইংল্যান্ড। ২০০৫ সালের পর ইংলিশ ক্রিকেট দলের এটিই হবে প্রথম পাকিস্তান সফর। গত গ্রীষ্মে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ইংল্যান্ড সফরের পরিপ্রেক্ষিতে ইংলিশরা এই সফরে রাজি হয়েছে। করোনা মাহামারিতে বিপর্যস্ত ইংল্যান্ড সফরে গিয়ে পাকিস্তান তাদের বিপক্ষে টেস্ট ও টি-২০ সিরিজে অংশ নিয়েছিল। সম্প্রতি জিম্বাবোয়ে, উইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা ও বিশ্ব একাদশক পাকিস্তানে খেলে গেছে। ঘরোয়া লিগ পিএসএলেও অংশ নিয়েছে বেশ কয়েকজন ইংলিশ ক্রিকেটার।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক কামার চিমা মনে করেন এ ধরনের ইভেন্ট বহির্বিশ্বে পাকিস্তানের ভাবমুর্তির উন্নতি ঘটাবে। তিনি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, “উগ্রবাদ ও উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সাফল্য অর্জনের পর পাকিস্তান চায় বিশ্ববাসী তাদের দেশকে স্বাভাবিক দেশ হিসেবে দেখুক। এই মুহূর্তে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের জন্য উপযুক্ত। সেনাবাহিনী এবং নিরাপত্তায় নিয়োজিত সংস্থাগুলো যথেষ্ঠ কাজ করেছে।”

 

আরও পড়ুন

Back to top button